জার্মান উইকিপিডিয়াতে ২১ মার্চ সারাদিন পাঠকগণ এই ব্যানার দেখতে পান।

ইউরোপের প্রস্তাবিত নতুন কপিরাইট আইনের কিছু অংশের প্রতিবাদ জানাতে ও বিশেষ করে ১১ এবং ১৩ অনুচ্ছেদের সংশোধন চেয়ে গত ২১ মার্চ উইকিপিডিয়ার জার্মান, চেক, ড্যানিশ ও স্লোভাক ভাষা সংস্করণ ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। ২৫ মার্চ ইতালীয়, কাতালান, আস্তুরীয় ও গ্যালিসিয় ভাষার উইকিপিডিয়া প্রতিবাদে যোগ দেয়।

এ দিন এ সংস্করণের উইকিপিডিয়াতে পাঠকগণ একটি কালো ব্যানার দেখতে পান যাতে ইউরোপীয় পাঠকদের তাদের স্ব-স্ব সাংসদের কাছে এই কপিরাইট আইনটি পাশ না করতে অনুরোধ করার আহ্বান জানানো হয়।

উইকিপিডিয়া ছাড়াও আরও বেশ কিছু ইন্টারনেট জায়ান্ট প্রস্তাবিত এই কপিরাইট আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেয়। উইকিপিডিয়ার তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা, উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই নতুন আইনের ফলে বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত জ্ঞান চর্চা হুমকির মুখে পড়বে।”

প্রস্তাবিত এ কপিরাইট আইনের ১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোন মাধ্যমে যেকোন প্রকাশকের লিঙ্ক বা যেকোন ছোট একটি বিষয় উদ্বৃতি দিলে উক্ত প্রকাশক সেই মাধ্যমে অর্থ দাবি করতে পারবেন। অনুচ্ছেদ ১৩ অনুসারে, ব্যবহারকারী কর্তৃক বিষয়বস্তু যুক্ত হয় এমন মাধ্যমসমূহ আইনি হুমকির মুখে পরবে। ব্যবহারকারীদের কর্তৃক কপিরাইট লঙ্ঘিত হলে প্রকাশকগণ উক্ত মাধ্যমের নামে মামলা করতে পারবেন।

যার ফলে প্রতিটি মাধ্যমে এমন একটি ছাঁকুনি (আপলোড ফিল্টার) যুক্ত করতে হবে যাতে কোন কিছু আপলোডের পূর্বেই সেটি শনাক্ত করা যায়। সমালোচকরা মনে করেন, এমনিতে বিষয়টি ভালো হলেও মাধ্যমগুলোর উপর আইনি চাপ তৈরি হবে এবং কপিরাইট ট্রোল কর্তৃক সেটি অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

যদিও অলাভজনক সংস্থাসমূহ ১৩ অনুচ্ছেদের বাইরে রাখা হয়েছে কিন্তু উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন মনে করে, যেহেতু উইকিপিডিয়ার বিষয়বস্তু স্বেচ্ছাসেবী অবদানকারী কর্তৃক তৈরি হয় সেহেতু অনুচ্ছেদ ১৩ বিষয়বস্তুর বৈচিত্রতা হ্রাস করবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি হুমকির মুখে ও নিরাপদ স্থানে থাকতে ভালো বিষয়বস্তুগুলোও বাতিল করে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ, মঙ্গলবার এই কপিরাইট আইনের বিষয়ে ইউরোপীয় সংসদে ভোটাভুটি করা হবে। এখন পর্যন্ত ৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই বিতর্কিত কপিরাইট আইনটি সংসদে পাশ না করার জন্য তাদের স্ব-স্ব সংসদ সদস্যের প্রতি আরজি জানিয়েছেন।

হালনাগাদ: ২৬ মার্চের ভোটে নতুন প্রস্তাবিত কপিরাইট আইনটি ইউরোপীয় সংসদে পাশ হয়। আইনটি পাশ হওয়ার সাথে সাথে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে ব্যবহারকারীরা ব্যাঙ্গাত্বক বিভিন্ন পোস্ট ও মীম পোস্ট করা শুরু করেন। ইউরোপীয় কমিশনের এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Translate »
Share This