
উইকিম্যানিয়া ২০২৫-এর গ্রুপ ছবি। ছবি: Wikimedia Foundation
উইকিম্যানিয়া ২০২৫ নাইরোবিতে অংশগ্রহণ আমার জন্যে ছিল এক কর্মমুখর আনন্দদায়ক ঘটনা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শত শত উইকিমিডিয়ানের মাঝখানে নিজের দেশ ও নিজেদের কাজগুলোকে স্বমূল্যায়ন করবার এক নিজস্ব সুযোগ। এই প্রথম নিজের কাজকে দেখার এক অবারিত দ্বার খুলে দিয়েছিল সেই নাইরোবির কয়েকটা দিন। আমি দেখেছি, মানবজাতির সৃষ্ট এক সর্ববৃহৎ বিশ্বকোষে কাজ করা অজস্র উইকিমিডিয়ানের মাঝখানে আমিও আছি।
সারা দুনিয়া থেকে উইকিমিডিয়ানগণ উইকিম্যানিয়াতে আসেন, এবং এবছর এসেছিলেন ৭৭৬ জন। উইকিমিডিয়া আন্দোলনের সাথে জড়িত সারা দুনিয়া চষে বেড়ানো দক্ষ স্বেচ্ছাসেবকগণ যেমন আছেন, তেমনি আছেন একেবারেই নবীন কোনো উইকিমিডিয়ান যিনি কোনো পশ্চাৎপদ এলাকার সাধারণ কোনো ভাষায় অসাধারণ সব কাজ করে চলেছেন। উইকিম্যানিয়া সম্পর্কে আমার আগ্রহ কাজ করেছিল বহুদিন ধরে, কারা কীভাবে বিভিন্ন ভাষাকে অনলাইন দুনিয়ায় সহজলভ্য ও পুনর্জাগরিত করে চলছেন তা আমার বোঝার ইচ্ছা ছিল দীর্ঘদিন। তাই আমি এবার কথা বলেছি সেইসব ভাষার উইকিমিডিয়ানদের সাথে যারা ছোট ছোট আঞ্চলিক ভাষার উইকিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। আমি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটেটে লেসেলের সাথে এই বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলি যিনি আফ্রিকার বিভিন্ন ভাষার উপরে কাজ করছেন।
৫ আগস্ট নাইরোবী ভ্রমণের প্রথম দিন আমরা গিয়েছিলাম নাইরোবি জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে। এই উদ্যান দেখতে যাওয়া ছিল মহান আফ্রিকাকে কাছ থেকে আবিষ্কার করা। এই উদ্যানটি রাজধানী শহরের এক প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। এই উদ্যান দেখে আমার মনে সাথে সাথেই ভেসে উঠেছিল, আমরা রাজধানী থেকে দূরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারছি না। নাইরোবির এই উদ্যান আমাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের বাংলাদেশে এখনো অনেক কাজ করা বাকি রয়ে গেছে।
উইকিম্যানিয়ায় এবারের পোস্টার সেশনটি উপস্থাপন করা হয়েছিল ৮ আগস্ট। সেদিন যে পোস্টারটি আমাকে নাড়া দিয়েছিল সেটি কলম্বিয়ার গৃহযুদ্ধের স্মৃতির বুনন যাতে দীর্ঘ ছয় দশকের অস্ত্রের সংঘাতের স্মৃতিকে উন্মুক্ত ঐতিহাসিক তথ্যসংকলনে বাঁচিয়ে রাখার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এই পোস্টার সেশনেই আমি দীর্ঘক্ষণ কথা বলি চীনের উইকিমিডিয়ান জিয়াংশেংয়ের সাথে। এবছর প্রায় ৭০টির অধিক পোস্টার প্রদর্শন করা হয় এবং উইকিমিডিয়ানগণ খুব মনোযোগ দিয়ে পোস্টারগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন।
এইবারের উইকিম্যানিয়াতে একটি সরাসরি চিত্রকর্ম আঁকার সময় ৯ তারিখ কাকতালীয়ভাবে আমি উপস্থিত হয়েছিলাম। এই উপস্থিত হয়েই আমি দেখি অনেকেই তাৎক্ষনিকভাবে এক বিশাল ক্যানভাসে কিছু না কিছু আঁকছে। সবার আগ্রহ দেখে আমি হাতে তুলি তুলে নিয়ে গাঢ় কালো রঙে একে ফেললাম উইকির বিশ্বলোগোর মাঝে এক ‘উ’ যা উইকিমিডিয়া বানানের প্রথম বাংলা অক্ষরকে নির্দেশ করে।

উইকি সেতুর মিটআপ শেষে গ্রুপ ছবি। ছবি: Bijay Chaurasia
এবছর উইকিম্যানিয়ায় অজস্র সেশনে অংশ নেয়া হয়েছে, অনেকের সাথে কথা বলা হয়েছে। তবে এসবের মাঝেও অনেকগুলো আড্ডায় অংশ নেয়া হয়েছিল। এসব আড্ডার ভেতর থেকেই শুনেছি বিভিন্ন উইকিমিডিয়ানের অতীত কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। আমি বৈশ্বিক গ্লাম, উইকিসেতু এবং উইকি লাভস রমাদানের আড্ডায় অংশ নেয়া ছাড়াও উইকিসংকলনের একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। এক কথায় এই বছরের উইকিম্যানিয়ায় অংশগ্রহণ ছিল বিশ্বসংস্কৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজতে গিয়ে অজস্র মণিমাণিক্যের সংস্পর্শে আসবার এক অমূল্য সময়।
