উইকিম্যানিয়া ২০২৫-এর গ্রুপ ছবি। ছবি: Wikimedia Foundation

আমি ২০১৬ সালে উইকিপিডিয়ায় যুক্ত হয়েছি। বাংলাদেশ, ভারতের কয়েকটি সম্মেলনে যোগদানের সুযোগ হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে জানতে পেরেছি উইকিম্যানিয়া হলো উইকিমিডিয়ানদের জন্য বার্ষিক বড় আয়োজন। বিশ্বের নানা দেশ থেকে উইকিমিডিয়ানরা এখানে অংশগ্রহণ করেন। তবে উইকিম্যানিয়া ২০২৫ ছিলো আমার জন্য প্রথম। এবারের আয়োজনটি ছিলো কেনিয়ার নাইরোবিতে। এতো বড় আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি সত্যই অনেক আনন্দিত। এছাড়া নানা ইভেন্টে যুক্ত হতে পেরে নিজের অর্জনের ঝুড়িতে নতুন অনেক অভিজ্ঞতার সংযোজন হয়েছে।

সাফারির দেশে

ভারত ও নেপালের ভিসা বিষয়ে আমার জানা শোনা আছে। কিন্তু আফ্রিকার দেশেগুলোতে কিভাবে ভিসা পাবো সেটা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। পরে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করে ও বাংলাদেশের অন্যান্য উইকিমিডিয়ানদের সাথে কথা বলে বুঝলাম; কেনিয়ার ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) দরকার। এই প্রক্রিয়া খুবই সহজ। বাংলাদেশ থেকে আমরা ৫ জন উইকিমিডিয়ান ১ কর্মদিবসেই ইটিএ পেয়ে যাই। এছাড়াও আমাদের ইয়েলো ফিভার ভ্যাক্সিন নিতে হয়েছে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৪ আগস্ট একই ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ৫ জন উইকিমিডিয়ান যাত্রা শুরু করি। এরপরে দুবাই ট্রানজিটের সময় নেপালী উইকিমিডিয়ানদের সাথে সাক্ষাৎ হয়। এছাড়াও একই ফ্লাইটে অন্যান্য দেশের অনেক উইকিমিডিয়ান দুবাই থেকে নাইরোবি যাত্রা শুরু করেছি। 

উইকিওমেনস লাঞ্চে গ্রুপ ছবি। ছবি: Luisalvaz

উইকিনারী* শীর্ষ সম্মেলন

৬ আগস্ট থেকে মুল সম্মেলন শুরু হয়। ৫ আগস্ট ছিলো প্রাক-সম্মেলন ; এইদিন মিটআপ, প্রেজেন্টেশন, নানা বিষয়ে ছোট ইভেন্ট ছিলো। নারী উইকিমিডিয়ানদের দিনব্যাপী আয়োজন ছিলো। প্যানেল আলোচনা, প্রেজেন্টেশন, ছোট ছোট খেলার আয়োজন, একসাথে দুপুরের খাবার, গ্রুপ ছবি ইত্যাদি। নারীদের এই আয়োজনে সবুজ রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজেদের পোশাকে সবুজের ছোঁয়া রাখা। একসাথে অনেক নারী উইকিমিডিয়ানদের আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। তারুণ্যের উচ্ছ্বলতা ছিলো সবার মাঝে। সামাজিক, ব্যক্তিজীবনে নানা বাঁধা পেড়িয়ে মেয়েরা এতদূর এসেছে; সবারই নিজস্ব গল্প আছে। সেই সব গল্প আড্ডা ও নতুনভাবে কাজের প্রেরণা নিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনটি বিকেলে শেষ হয়।

মিটআপ ও ইভেন্টে অংশগ্রহণ

৬ তারিখ সকাল থেকে ৮ টি ভেনুতে নানা আয়োজন শুরু হয়। সম্মেলনের প্রথম দিন রেজিস্ট্রেশন শেষ করে ইভেন্টে অংশগ্রহণ করি। বিশেষ করে গ্ল্যামের, লাইটেনিং টক, অন্যান্য প্যানেল আলোচনার সেশনে যুক্ত থেকেছি। ম্যানিয়াতে আরো একটি নতুন অভিজ্ঞতা হলো ইভেন্টের ফাঁকে চা বিরতিতে অন্য দেশের উইকিমিডিয়ানদের সাথে কথা, পরিচিতি, ছবি তোলা, আড্ডা ইত্যাদি। প্রথমদিন বিকেলে উদ্বোধনী অনেক জমকালো ছিলো। কেনিয়ার লোকসংস্কৃতি উপস্থাপন হয়। সেদিন আমরা সবাই নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেছিলাম। নানা ভাষা সংস্কৃতির মিলন মেলা ছিলো সে দিন। এছাড়াও ৬ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত উইকিসংকলন, উইকি লাভ রামাদান, উইকিমৈত্রী মিটআপসহ অন্যান্য ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলাম।

স্বেচ্ছাসেবকের কাজে অংশ নেওয়া

৭ তারিখ ছিলো আমার ছবি তোলার দায়িত্ব। বিশেষ করে হ্যাকাথন রুমে আমার দায়িত্ব থাকলেও পুরো সম্মেলন জুড়ে আমি ছবি তুলেছি। উইকিম্যানিয়া ২০২৫ এর কেনিয়া ভ্রমণ ও ইভেন্টের ৩০০+ ছবি আপলোড করেছি। বেশ কয়েকজন আলোকচিত্রীর সাথে পরিচয় হয় এই কাজে অংশ নিতে পেরে।

নাইরোবি জাতীয় উদ্যান ও জাদুঘর ভ্রমণ

৫ আগস্ট ভোরে আমরা দুইটা জিপে করে নাইরোবি জাতীয় উদ্যানে যাই। আমাদের জিপে ছিলাম বাংলাদেশি, নেপালি ও ইউক্রনের উইকিমিডিয়ান। টিভি ও চিড়িয়াখানায় দেখা প্রাণীদের সরাসরি ও মুক্তভাবে চলাচল করতে দেখায় খুব আনন্দ অনুভব করেছি। সবচেয়ে অবাক হয়েছি এক পলকে শ’খানেক জেব্রা দেখে।

এরপরে ৮ তারিখে জাতীয় জাদুঘরে গিয়েছিলাম। প্রাণের বিবর্তনের ধারাবাহিক ইতিহাস আছে সেই জাদুঘরে। তারপরে স্নেক পার্কে গিয়ে তো রীতিমত বিস্মিত হয়েছি। এতো প্রজাতির জীবন্ত সাপ কাচের ফ্রেমের ভেতর; যা খুব কাছে থেকে দেখা যায়। কেনিয়ার জাদুঘরে সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি চমৎকার। 

উইকিবার্তা
Translate »
Share This