উইকি লাভস রামাদান।

উইকিপিডিয়ার মতো একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো এমন কিছু মানুষের সঙ্গে কাজ করা, যাদের সঙ্গে হয়তো কোনোদিন সামনাসামনি দেখা হবে না। কিন্তু আমাদের সবার লক্ষ্য এক, মুক্ত জ্ঞানের প্রসারে কাজ করা। এবার সেই ভার্চুয়াল সম্পর্কের দেয়াল ভেঙে প্রথমবারের মতো সশরীরে উইকিম্যানিয়াতে অংশ নেওয়ার সুযোগ হলো, আর সেই আয়োজনটি ছিল কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে।

এই অভিজ্ঞতা লিখে কিংবা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এটি ছিল আবেগ, আনন্দ এবং জ্ঞানের এক দারুণ মিশ্রণ। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে বছরের পর বছর অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, একই প্রকল্পে কাজ করেছি, তাদের সঙ্গে সরাসরি সৌহার্দ্য বিনিময় করার সুযোগ পাওয়াটা ছিল এক অন্যরকম আনন্দের মুহূর্ত। যাদের প্রোফাইল ছবি দেখে এতকাল পরিচিত ছিলাম, তাদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলা, হাসি বিনিময় করা, এই অনুভূতি ভোলার মতো নয়। বিভিন্ন সময়ে যারা আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের থেকে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পেয়েছি, যা ছিল আমার জন্য এক অসাধারণ প্রাপ্তি। প্রতিটি কর্মশালা এবং আলোচনায় উইকিমিডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ভাবনাগুলো উঠে এসেছে, তা আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। নাইরোবির মনোরম পরিবেশে নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শোনাও ছিল দারুণ উপভোগ্য।

পুরো আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে উইকি লাভস রামাদান-এর (Wiki Loves Ramadan) মিটআপটি। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া, ইউক্রেন, তানজানিয়াসহ আরও অনেক দেশ থেকে আসা সহকর্মী, অংশগ্রহণকারী এবং বিজয়ীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। মিটআপটি ছিল ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভাষার মানুষের মিলনমেলা। সবার আন্তরিকতা আর কাজের প্রতি আগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।

মিটআপে উপস্থিত সবাইকে আমরা উইকি নলেজ পার্ক (Wiki Knowledge Park)-এর পক্ষ থেকে উপহার, চকলেট এবং স্টিকার দিতে পেরেছি। এই ছোট্ট উপহারগুলো যেন আমাদের পক্ষ থেকে ভালোবাসার একটি প্রতীক ছিল। আর এটা জানিয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যে, ২০২৫ সালে উইকি লাভস রামাদান প্রকল্পে বিশ্বব্যাপী ৩২২৫টি নতুন নিবন্ধ যুক্ত হয়েছিল। আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা আরও বড়। আমরা ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ৭৫০০+ এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। একই সাথে, ২০২৬ সাল থেকে উইকিমিডিয়া কমন্সে উইকি লাভস রামাদান ছবি আপলোড প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে। আমরা আশা করি, আমাদের সম্প্রদায়ের সবাই এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং এটিকে সফল করে তুলবেন।

এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলো শুধু জ্ঞানের আদান-প্রদান নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক পরিবারের অংশ হওয়ার অনুভূতিও দেয়। নাইরোবির এই উইকিম্যানিয়া আমার কাছে শুধুই একটি সম্মেলন নয়, এটি হয়ে থাকবে জীবনের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

উইকিবার্তা
Translate »
Share This