
২০২৫ সালের বর্ষসেরা উইকিমিডিয়ানের ওয়ার্ডমার্ক। ছবি: Rahmah for the Wikimedia Foundation
ডিজিটাল বিশ্বে জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে উইকিপিডিয়া আজ বিশ্বব্যাপী লক্ষ-কোটি মানুষের আস্থার স্থান। সেই জ্ঞানভিত্তিক আন্দোলনের সাফল্যের পেছনে আছেন অসংখ্য অজ্ঞাতনামা সম্পাদক, যারা নিঃস্বার্থভাবে অবদান রেখে চলেছেন প্রতিদিন। তাদেরই একজন রবার্ট, যিনি ছোট্ট একটি সম্পাদনা দিয়ে শুরু করলেও ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন বৈশ্বিক উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী মুখ। তার দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, নেতৃত্ব এবং কমিউনিটি গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ২০২৫ সালের বর্ষসেরা উইকিমিডিয়ান সম্মাননা।
রবার্ট প্রথমবার উইকিপিডিয়ায় যুক্ত হন ২০০৬ সালে, একটি অকার্যকর লিংক সংশোধন করে। তবে নিয়মিত সম্পাদনা শুরু করেন ২০১৯ সালে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি যুক্ত করেছেন ৭৯ হাজারেরও বেশি সম্পাদনা। তিনি মূলত ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় সিঙ্গাপুর-সংক্রান্ত নিবন্ধগুলোর মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অধিক মনোযোগ দিয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি ইংরেজি উইকিপিডিয়ার প্রশাসক নির্বাচিত হন, যা তার দায়িত্বশীলতা, আস্থা ও নেতৃত্বগুণের এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
সম্পাদক হিসেবে তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হলো “সিঙ্গাপুর-সম্পর্কিত নিবন্ধের সূচি”-তে নতুন প্রাণ সঞ্চার করা। একসময় অবহেলিত হয়ে পড়া এই সূচিকে তিনি নিজের তৈরি আধা-স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে নিয়মিত হালনাগাদ করার ব্যবস্থা করেন। তার উদ্যোগে সূচিটি নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে, আজ এটি শুধু সক্রিয় ও নির্ভুলই নয়, বরং ব্যবহারবান্ধবও, যা সিঙ্গাপুর-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করা সম্পাদকদের জন্য অপরিহার্য হাতিয়ার ।

রবার্ট সিম। ছবি: Wikimedia Foundation
রবার্ট কেবল অনলাইনে নন, অফলাইনেও সমানভাবে সক্রিয়। ২০২৩ সালে তিনি সহ-সম্পাদকদের সঙ্গে মিলে উইকিমিডিয়ান্স অব সিঙ্গাপুর ইউজার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিয়মিত সম্পাদকীয় মিলনমেলার আয়োজন শুরু করেন। একইসঙ্গে তিনি ESEAP Hub Preparatory Council-এর সদস্য হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক উইকিমিডিয়া সম্মেলন উইকিম্যানিয়া-এর অন্যতম সহ-আয়োজক ছিলেন তিনি।
নিজের কাজের দর্শন সম্পর্কে রবার্ট বলেন—
“উইকিপিডিয়া বর্তমানে বিপুল মানুষের তথ্যের ভরসাস্থল। কিন্তু জ্ঞান পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিষয়বস্তু দ্রুত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়তে পারে। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা আছে বলেই আমি আঞ্চলিক ও সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিই। এর মাধ্যমে নতুন সম্পাদক তৈরি হয়, যারা সম্মিলিতভাবে জ্ঞানকে সবার কাছে উন্মুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখে।”
তার নীরব অথচ অক্লান্ত পরিশ্রম, সহানুভূতিশীল মানসিকতা এবং অন্যদের এগিয়ে নিতে আগ্রহই আজ তাকে বিশ্বের কোটি মানুষের প্রশংসার কেন্দ্রে এনেছে। রবার্টের এই যাত্রা প্রমাণ করে, ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপও যদি অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা একদিন বৈশ্বিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।
সূত্র: উইকিমিডিয়া ডিফ ব্লগ থেকে অনূদিত
