
পেরুর লিমায় ব্রেনা জেলায় অবস্থিত সিনেস্টার মেট্রোর টিকিট অফিস। ছবি: Mayimbú সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।
উইকিপিডিয়া বাংলাদেশের ইন্টারনেট জগতের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। মানুষ বহুবিধ কারণে উইকিপিডিয়া ভিজিট করে, তবে সেগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে দেশী চলচ্চিত্রের ব্যাপারে তথ্যের জন্য। আইএমডিবি ও বিএমডিবির অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার প্রভাব কমে যায়নি বরং ক্রমশ বাড়ছে। হয়তো তার অন্যতম কারণ হচ্ছে: আইএমডিবি ও বিএমডিবি চলচ্চিত্রের উপাত্তের প্লাটফর্ম হিসেবে সুনির্দিষ্ট কিছু বিভাগ ছাড়া অতিরিক্ত তথ্য দিতে পারেনা। এছাড়া মনে রাখতে হবে যে এসব ওয়েবসাইটের তথ্য যে কেউ পরিবর্তন করতে পারে। অন্যদিকে উইকিপিডিয়ার তথ্য পরিবর্তন করা গেলেও এর নিবন্ধগুলোতে নির্ভরযোগ্য উৎসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয় এবং উইকিপিডিয়ায় তথ্য দ্রুত আপডেট করা সম্ভব। তাই বলা যায় যে উইকিপিডিয়া কিছু দিক দিয়ে সবসময় এগিয়ে থাকবে।
একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে ১২ মাসই অনেক চলচ্চিত্র মুক্তি পেতো। কিন্তু সেসব দিন আজ অতীত, গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো শুধু দুই ঈদ ছাড়া অন্য কোনো সময় সাধারণত মুক্তি পায়না। আর তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বাণিজ্য এখন ঈদের মৌসুমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাই উইকিপিডিয়ায় বাংলাদেশী চলচ্চিত্র সম্পর্কিত নিবন্ধ তৈরি ও সম্পাদনা মূলত ঈদের মৌসুমে বেশি দেখা যায়, আর জানেন তো, সম্পাদনা যত বেশি তার সাথে তাল মিলিয়ে ধ্বংসপ্রবণতা ও অগঠনমূলক সম্পাদনা তত বেশি হবে। আর মূল সমস্যাটা এখানেই চলে আসে। আগেই বলেছি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বাণিজ্য এখন দুঃখজনকভাবে ঈদের মৌসুমের উপর নির্ভরশীল। আর ঈদের সময়গুলোতে বাংলাদেশের উইকিপিডিয়ানরা তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় থাকে। তাই চলচ্চিত্র সম্পর্কিত ধ্বংসপ্রবণতা ও অগঠনমূলক সম্পাদনা আটকানো কঠিন হয়ে যায়। এই অযাচিত সম্পাদনাগুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করা হয়তো সহজ হবে। প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে যে দেশীয় চলচ্চিত্র মূলত ঈদ নির্ভর হওয়ায় প্রচুর পাঠক উইকিপিডিয়ায় ঈদের মৌসুমে ভিজিট করেন এবং তথ্য সংযোজন ও বিয়োজন করতে সম্পাদনা করে থাকেন। ফলে সেসব “মৌসুমী সম্পাদকগণ” উইকিপিডিয়ার নীতিমালার সাথে পরিচিত না হওয়ার কারণে অনেক সম্পাদনা করে বসেন যেগুলো আসলে অযাচিত। আর এসব সম্পাদনা রিভার্ট ও সংশোধন করতে সম্প্রদায়ের অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। অনেকে আছেন মজা করে চলচ্চিত্রের নিবন্ধে সম্পাদনা করে থাকেন, ফলে উইকিপিডিয়ানদের এসব সম্পাদনা বাদ দিয়ে আগের সংস্করণ পুনর্বহাল করতে অতিরিক্ত সময় দিতে হয়। হয়তো যারা এই সম্পাদনাগুলো করে থাকেন তাদের উদ্দেশ্য শুধুই মজা করা, কিন্তু তাদের এসব কাজের জন্য উইকিপিডিয়ানদের উপর চাপ যে কত বেড়ে যায় সেটা তারা জানেন না। তবে অযাচিত কাজগুলো এসব সম্পাদনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ঈদ মৌসুমে সম্পাদনা যুদ্ধ তীব্রতর হয়ে থাকে চলচ্চিত্রের বক্স অফিস বা “মোট আয়” লিখতে গিয়ে। অনেকে জানেনই না যে উইকিপিডিয়া সূত্র নির্ভর প্লাটফর্ম – অর্থাৎ এখানে প্রতিটি তথ্য সংযোজনের জন্য আমাকে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস প্রদান করতে হবে। নতুন সম্পাদক বা আইপি ব্যবহারকারীরা এসব না জেনে বা এসবের তোয়াক্কা না করে নিজের মনমতো বা যেকোনো ইউটিউব চ্যানেলে বলা বক্স অফিসের অঙ্কটি নিবন্ধে বসিয়ে দেন। অনেকে মনগড়া আয়ের পরিমাণ নিবন্ধে লিখে দেন বলে দেখা গেছে। এসবের ফলে নিবন্ধ সুরক্ষিত করতে হয় যা সহজে বা দ্রুত করা হয়না। ফলে সম্পাদনা যুদ্ধ চলতে থাকে। তবে আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো সম্পাদনা যুদ্ধের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। এই বিষয়গুলোকে সহজে বোঝার জন্য আমি দুটি পয়েন্ট ব্যাখ্যা করবো – অজ্ঞতা ও ব্যবস্থাহীনতা।
অজ্ঞতার ব্যাপারটা সম্পাদনাকারীর ব্যক্তিগত বিষয়৷ এর জন্য দায়ী শুধুই তিনি। অনেকেই চলচ্চিত্রের আয়ের ব্যবস্থা ও অন্যান্য খুটিনাটি বিষয় না জানার ফলে অজ্ঞতাবশত কিছু সম্পাদনা করে বসেন। এরকম দুটি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে হয়তো বুঝতে আরও সুবিধা হবে। বছরখানেক আগে একটি চলচ্চিত্র বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। তার বক্স অফিস যেটা নিবন্ধে লেখা ছিল সেটা বারবার একজন বিভিন্ন আইপি ঠিকানা থেকে মুছে খুব কম পরিমাণের টাকা লিখছিলেন। তিনি বারবার সাবধানও করে দিচ্ছিলেন যে তিনি যে টাকার পরিমাণ লিখেছিলেন যেন সেটা পরিবর্তন না করা হয়! কিন্তু উইকিপিডিয়ার নীতিমালার সাথে তার সম্পাদনা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না কেননা সূত্রে বড় অঙ্কের পরিমাণ বক্স অফিস হিসেবে লেখা ছিল। ধীর গতির সম্পাদনা যুদ্ধ চলাকালে তিনি এক পর্যায়ে সম্পাদনা সারাংশে লিখলেন যে, বক্স অফিস বলতে শুধুই “টিকেট বিক্রি করে মুনাফার অংশকে বোঝায়”। অর্থাৎ তিনি বক্স অফিসের পরিমাণ থেকে ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে মুনাফার পরিমাণ লিখে দিয়েছিলেন। অথচ তার দাবি সঠিক ছিল না। বক্স অফিস বলতে সিনেমা হলে বিক্রি করা টিকেটের মোট টাকাকে বোঝানো হয়ে থাকে, মুনাফাকে কখনো বক্স অফিস বলা হয়না। আরেকবার এমন একটি পরিস্থিতি আসলো যেখানে এক ব্যক্তি মাসখানেক একটি চলচ্চিত্রের নিবন্ধে ধীরগতির সম্পাদনা যুদ্ধ চালিয়ে আমার সাথে বিতর্কে বসলেন। সেই বিতর্কে তিনি দাবি করলেন যে বক্স অফিসের জন্য যে সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেটি একটি “নিম্নমানের ওয়েব পোর্টাল” এবং মূল বক্স অফিসের পরিমাণ আরও কম। তিনি তার দাবির স্বপক্ষে একটি পুরোনো সূত্র তুলে ধরলেন যেখানে লেখা ছিল যে চলচ্চিত্রটি প্রথম সপ্তাহে ওই কম অঙ্কের অর্থ বক্স অফিস হিসেবে আয় করেছে। আমরা যখন বিতর্কে বসেছিলাম তখন মাসখানেক হয়ে গেছে আর নতুন সূত্রটি বেশ পরে প্রকাশিত। আমি তাকে বললাম যে সূত্রটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের নিজস্ব সাংবাদিক আছে এবং এটি অনেক আগে থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। আরও বললাম যে আগের সূত্রে মাত্র ৭ দিনের হিসাব দেওয়া আছে, তার মানে এই নয় যে চলচ্চিত্রটি ৭ দিন পর আয় করা বন্ধ করে দিয়েছে। উনি আমাকে তার দাবি অনুযায়ী বক্স অফিস আপডেট না করা হলে আমার বিরুদ্ধে “প্রশাসকদের নিকট বিচার দেওয়ার” হুমকি দিয়েছিলেন। অবশ্য শেষের দুটি পয়েন্ট বলার পর তিনি বিতর্ক থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন।
যেমনটা দেখছেন যে বিতর্কে উনার তিনটি ভুল ছিল – প্রথমত, বক্স অফিসের জন্য লেটেস্ট সূত্র ব্যবহার করতে হয় কেননা একটি চলচ্চিত্র কিছুদিন পর আয় করা বন্ধ করে দেয়না এবং দ্বিতীয়ত, তিনি সূত্রটি নির্ভরযোগ্য কিনা সেই ব্যাপারে খোঁজখবর না নিয়েই দাবি করেছিলেন যে এটি একটি অনির্ভরযোগ্য ওয়েব পোর্টাল (যদিও সেটির নিজস্ব পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে থাকে)। তাই অজ্ঞতা এসব ক্ষেত্রে অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় বলে ধরে নেওয়া যায়। দ্বিতীয় পয়েন্টটির জন্য দায়ী আমাদের দেশের চলচ্চিত্র শিল্প। উইকিপিডিয়ার নিয়ম হচ্ছে প্রাথমিক উৎস তথা প্রাইমারি সোর্সের বদলে মাধ্যমিক উৎস বা সেকেন্ডারি সোর্স ব্যবহার করতে হবে৷ বক্স অফিসের ক্ষেত্রে প্রাইমারি সোর্স হচ্ছে পরিচালক ও প্রযোজক, এবং সেকেন্ডারি সোর্স হচ্ছে সিনেমা হল। অর্থাৎ সিনেমা হল বক্স অফিস যেটা বলবে সেটাই উইকিপিডিয়ায় ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে কোনো বক্স অফিস সিস্টেম নেই। দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলো আয়ের হিসাব দিয়ে থাকে, কিন্তু সাধারণ সিনেমা হলগুলো আয়ের হিসাব দেয়না। যার ফলে চলচ্চিত্রের বক্স অফিস নিবন্ধে উল্লেখ করাটা অসম্ভব হয়ে যায় আর এই কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নিবন্ধে বক্স অফিসের জন্য প্রাইমারি সোর্স ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখন এখানে একটা বড় সমস্যা হচ্ছে অনেক প্রযোজক বক্স অফিসের পরিমাণ বাড়িয়ে বলে, আর ফলে অনেক নতুন সম্পাদক ব্যাপারটি নিয়ে অভিযোগ করে থাকে। কিন্তু এই ব্যাপারটা তারা বুঝতে পারেনা যে তাদের কথা মেনে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট চলচ্চিত্রের বক্স অফিসের তথ্য বাদ দিতে হয় তাহলে সাম্প্রতিক প্রায় সবগুলো বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের আয়ের হিসাব নিবন্ধ থেকে মুছে ফেলতে হবে, কারণ সেগুলোর তথ্য বেশিরভাগ প্রাইমারি সোর্স থেকে এসেছে। আর যদি সব চলচ্চিত্রের আয়ের হিসাব মুছে ফেলা হয় তাহলে তা পাঠকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করবে, যদিও পাঠকদের আবেগ দেখা উইকিপিডিয়া কাজ নয়। তবে আমার মনে হয় এই ইস্যু সমাধানের জন্য দেশে বক্স অফিস ব্যবস্থা চালু করা খুব জরুরি।
তবে এগুলোই শুধু নয়, আরও সমস্যা আছে। লেখায় বারবার উল্লেখ করেছি যে আমাদের দেশের চলচ্চিত্র এখন ঈদ নির্ভর। তার মানে এই নয় যে শুধু দুই ঈদে চলচ্চিত্র বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে। অন্যান্য মাসেও চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। যেমন আগের বছর মুক্তি পেয়েছিল শাকিব খানের দরদ, এটি ঈদের সময় মুক্তি পায়নি। কিন্তু যেমনটা বললাম: চলচ্চিত্রের বাজার ঈদ নির্ভর, তাই ঈদ ছাড়া অন্য সময়ের চলচ্চিত্রের খবর ও রিভিউ খুব একটা প্রকাশিত হয়না। ঈদ ছাড়া অন্যান্য সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সূত্র মূলত রুটিং কভারেজ ও প্রেস রিলিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে সেকেন্ডারি ও নিরপেক্ষ সূত্রের ব্যবহার করা হয়। আর তাই এই ধরনের সূত্রগুলো চলচ্চিত্রের নিবন্ধ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারেনা। মানুষ মূলত ঈদের চলচ্চিত্রের প্রতি বেশি আগ্রহী থাকে তাই মিডিয়া ঈদের চলচ্চিত্রের খবর বেশি প্রচার করে থাকে। যেখানে জনগণের আগ্রহ নেই, সেখানে মিডিয়াও নেই। আবার যেমন চলচ্চিত্রের রিভিউ প্রকাশে সংবাদপত্র এবং ওয়েব পোর্টালগুলোর নিয়মিত আগ্রহ থাকেনা বিধায় ঈদ ছাড়া অন্য কোনো সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ভালো চলচ্চিত্রের রিভিউ পাওয়া দুষ্কর। অথচ অন্য সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ভালো মানের চলচ্চিত্রের রিভিউ দিলে হয়তো দর্শকদের হলমুখী করা যেত, তার পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নিবন্ধ উইকিপিডিয়ায় আরও তৈরি এবং সমৃদ্ধ করা যেত। কিন্তু এসব বাস্তবে হচ্ছেনা। ঈদুল আজহা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু তার সাথে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্র জগতের আপডেট দেওয়া হচ্ছেনা। চলচ্চিত্রের গানের রিভিউ ও সে সংক্রান্ত খবরগুলো প্রকাশ করে মুভি কমিউনিটি চাঙ্গা রাখা যেত। চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তাদের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছাপানো যেত। একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, ঈদ যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে নিয়মিত বক্স অফিস বা আয়ের খবর প্রকাশ করা হয়না। বুঝলাম দেশে বক্স অফিস সিস্টেম নেই। সেক্ষেত্রে তো সিঙ্গেল স্ক্রিন বাদ দিয়ে শুধু মাল্টিপ্লেক্সের হিসাবও দেওয়া যেত। মাঝেমধ্যে বা মুক্তির বার্ষিকীতে বিভিন্ন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, কিন্তু এটা নিয়মিত করা গেলে অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্যতা উইকিপিডিয়ায় পূরণ করা সম্ভব।
উপরে ব্যাখ্যা করা সমস্যাগুলো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য সার্বজনীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই ব্যাপারগুলো এখানেই শেষ না, যদি বাংলাদেশে নিয়মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পেতো তাহলে দেশের মুভি লাভাররা চলচ্চিত্রের নিবন্ধে সম্পাদনা ও নিবন্ধ সৃষ্টি করতে সারা বছর কাজ করত, যার ফলে আমাদের বাংলাদেশের উইকিপিডিয়া সম্প্রদায় আরও শক্তিশালী হতো। কিন্তু শুধু ঈদের সময় গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ায় শুধু সেই সময়ে নিবন্ধ সৃষ্টি করতে দেখা যায়। ঠিকমতো নিয়মকানুন না জানার ফলে অনেক আনাড়ি ও নতুন সম্পাদক ত্রুটিপূর্ণ চলচ্চিত্রের নিবন্ধ তৈরি করে থাকে যা পরে আমি খসড়ায় স্থানান্তর করতে দেখেছি। এই পরিবেশ পরিবর্তনে যেমন ঈদ ভিত্তিক চলচ্চিত্র বাণিজ্য থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং বক্স অফিস ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে, তার পাশাপাশি সম্পাদকদের উইকিপিডিয়ার নীতিমালা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এগুলোর সাথে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, গবেষক ও পোর্টালগুলোকে আরও বেশি সদয় হতে হবে।
