ভারতের প্রতীক/পাবলিক ডোমেইন

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ৯ মে ২০২৫ এ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। এতে নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ বাতিল করেছে, যেখানে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনকে বলা হয়েছিল এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (ANI) নামের সংবাদ সংস্থার দায়ের করা মানহানি মামলার নিবন্ধটি মুছে ফেলতে। সুপ্রিম কোর্ট বলছে, এভাবে নিবন্ধ সরানোর নির্দেশ ভারতের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে থাকা বাক-স্বাধীনতা ও জনসমালোচনার সুযোগের পরিপন্থী।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি অভয় এস ওকা ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা। তারা দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশকে “অসামঞ্জস্যপূর্ণ ” বলে আখ্যা দেন। আদালত আরও বলেন— “আদালত একটি উন্মুক্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে সাধারণ মানুষের মতামত,  আলোচনা – সমালোচনা সবসময় চালু থাকতে হবে।”

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ “দুইটি শর্ত—প্রয়োজনীয়তা ও সামঞ্জস্যতা” পূরণ করেনি। আদালতের ভাষায়:

“কোনো নিবন্ধ মুছে ফেলার নির্দেশ তখনই দেওয়া যাবে, যখন এটি ন্যায়বিচারের সঠিক প্রয়োগ বা বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতায় প্রকৃত ও গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে।”

আদালত নরেশ শ্রীধর মিরাজকার বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি নয়জনের বেঞ্চ থেকে উদ্ধৃতিও করেছে, যা নিশ্চিত করেছে যে “জনসাধারণের নজরদারী ও পর্যবেক্ষণের অধীনে অনুষ্ঠিত বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে বিচারিক অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি পরীক্ষা হিসেবে কাজ করে এবং ন্যায়বিচারের প্রশাসনের মধ্যে জনসাধারণের বিশ্বাস তৈরি করার জন্য একটি শক্তিশালী উপায় হিসাবে কাজ করে।”

উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের লোগো

২০২৪ সালে এই বিরোধ শুরু হয়, যখন ANI উইকিমিডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগ ছিল—উইকিপিডিয়ায় ANI-কে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের “প্রচারযন্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানহানিকর। দিল্লি হাইকোর্ট তখন নির্দেশ দেয় নিবন্ধটি সরিয়ে ফেলতে এবং আরও বলে যে, আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করলেও তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।

এরপর উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন নিম্ন আদালতের অর্ডার আপিল করে। তাদের যুক্তি ছিল—এই ধরনের নির্দেশ বাক-স্বাধীনতার ওপর “ভীতিজনক প্রভাব” ফেলবে। সুপ্রিম কোর্ট একমত হয়ে জানায়—

“একটি উদার গণতন্ত্রে বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যমকে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে।”

সূত্র: jurist.org থেকে অনূদিত

উইকিবার্তা
Translate »
Share This