সম্প্রতি উইকিপিডিয়ার সালিশি কমিটি আটজন সম্পাদককে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে নিবন্ধ সম্পাদনা থেকে নিষিদ্ধ করেছে। নিষিদ্ধদের মধ্যে ছয়জন ফিলিস্তিনপন্থী এবং দুজন ইসরায়েলপন্থী। কমিটি নতুন নিয়ম প্রণয়ন করেছে, যা ইচ্ছেকৃত বিকৃতি রোধ এবং ইসরায়েল সম্পর্কিত বিষয়বস্তুতে শালীনতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং উইকিপিডিয়ার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়।

চিত্র: নাহিয়ান/সিসি-বাই-এসএ-৩.০
১৫ জন অভিজ্ঞ সম্পাদকের সমন্বয়ে গঠিত সালিশি কমিটি কয়েক মাসের আলোচনা এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়। বিরল এই পদক্ষেপটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের গভীর মতাদর্শিক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পর আরও তীব্র হয়। “গণহত্যা,” “উপনিবেশবাদ,” এবং “বর্ণবাদী শাসন” শব্দগুলোর ব্যবহার নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়।
ইসরায়েলপন্থী শিবির দাবি করে, ফিলিস্তিনপন্থী সম্পাদকদের একটি সংগঠিত দল উইকিপিডিয়ার নীতিমালার অপব্যবহার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়াচ্ছে। দ্য জিউইশ জার্নাল এবং পাইরেট ওয়্যারস-এর মতো মিডিয়া এসব উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এদিকে, ইলন মাস্কসহ রক্ষণশীলরা উইকিপিডিয়ার ওপর উদারপন্থী পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছেন। মাস্ক সম্প্রতি উইকিপিডিয়ার রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে অভিযোগ তুলে এর তহবিল বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সালিশি কমিটির এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বিষয়বস্তুর ওপর কোনো রায় নয়; বরং এটি অসংলগ্ন এবং বাধাসৃষ্টিকারী আচরণের জন্য শাস্তি হিসেবে আরোপিত। এই আচরণের মধ্যে বারবার সংশোধন বাতিল করা, বিতর্ক একতরফাভাবে বন্ধ করা, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং তথ্যের অপব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। বিরোধ নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৩০ দিনের মধ্যে ৫০০ অবদান রাখা সম্পাদকরাই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সম্পর্কিত নিবন্ধ সম্পাদনা করতে পারবেন।
এছাড়া, সম্পাদনার ভারসাম্য বজায় রাখতে, নতুন নিয়মে প্রশাসকদের “সুষম সম্পাদনার নিষেধাজ্ঞা” আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো ব্যবহারকারী যদি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেন, তবে তাকে অন্যান্য বিষয়ে অবদান না রাখা পর্যন্ত সম্পাদনার অনুমতি দেওয়া হবে না। এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে উইকিপিডিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত জুনে, উইকিপিডিয়া এডিএল-কে (অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ) ইসরায়েল ও সিয়োনিজম বিষয়ে অবিশ্বাস্য উৎস হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার পর সমালোচনার মুখে পড়ে। এডিএল দাবি করে যে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো সম্পাদকদের কয়েকজনই এখন নিষিদ্ধ। এডিএল-এর সিইও জোনাথন গ্রিনব্লাট এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়ে পক্ষপাতিত্ব রোধে আরও পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তবে, কিছু সমালোচক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। উইকিপিডিয়ায় ইসরায়েল-বিরোধী কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে এমন একটি ব্লগ, দাবি করেছে যে উইকিপিডিয়ার সালিশি কমিটি, হামাসপন্থী ও ইহুদিবিদ্বেষী প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
