উইকিউক্তি। ছবি: আফতাবুজ্জামান সিসি-বাই-এসএ-৪.০ / উইকিমিডিয়া কমন্স

বাংলা উইকিউক্তি নিয়ে যখন কাজ শুরু করি, তখন এটি ছিল ডিমের ভিতরে অর্থাৎ, ইনকিউবেটরে। হাঁটি হাঁটি পা পা করতে করতে প্রকল্পটি মূল প্রকল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সেটাও বর্ষ পার হতে চললো। বাংলা উইকিউক্তির প্রথম বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে কিছু একটা করবো ভাবছিলাম, এর মাঝেই কয়েকজন উইকিমিডিয়ান বন্ধু জানালেন উইকিবার্তাতে কিছু লেখার জন্য। আমার মনে হল, উইকিউক্তিকে নিয়ে লেখাই যায়। আমি যদিও ভাল লেখিয়ে নই, কিন্তু মনে দরদ থাকলে নাকি সর্বসাধন হয়।

উইকিউক্তি যখন ইনকিউবেটরে ছিল, তখন প্রথমে আমি এটার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী ছিলাম না। উইকিউক্তিকে অগুরুত্বপূর্ণ ভাবা আমার অনাগ্রহের কারণ ছিল না, বরং বাংলা উইকিউক্তি তখন কোনো গ্রহণযোগ্য কাঠামোতে ছিলনা। তবুও কেন জানি মেটা উইকির অনুরোধ পৃষ্ঠাটা আমার ব্রাউজারে বুকমার্ক করে রেখেছিলাম, সেটাও অকাজেই চলে গিয়েছিল প্রায় তিন বছর। এর মধ্যে উইকিভ্রমণ ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে মূল প্রকল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তখন আমি অনলাইনে সক্রিয় ছিলাম না। সেজন্য একটি উইকি কীভাবে উইকিমিডিয়ার ভাষা-কমিটির শর্তে উৎরে যায়, সেটা আমার জানা ছিল না।

পরে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে আমি আবার উইকিপিডিয়ায় সক্রিয় হই এবং ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে সম্প্রদায়কে উইকিউক্তির জন্য একসাথে কাজ করতে আগ্রহী করতে সচেষ্ট হই। এর পিছনে কারণও ছিল, সলীল কুমার দাদা তিন মাস যাবত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছিলেন। পাশাপাশি ইয়াহিয়া ভাই, শাকিল ভাই, ঐশিক ভাই, মহাদ্বার, আফতাব ভাই আর তৎকালীন ইনকিউবেটর প্রশাসক তাহমিদ ভাইসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ উইকিমিডিয়ান ইনকিউবেটরে থাকা উইকিউক্তিতে সক্রিয় ছিলেন। আমিও সক্রিয়তার সর্বনিম্ন হার ধরে রেখে অবদান রাখছিলাম। আমার অনভিজ্ঞতার কারণে আমি ভাবতে লাগলাম, শর্ত অনুযায়ী তিন মাস ধারাবাহিক অবদান রাখলেই আমরা অনুমোদন পেয়ে যাব। এই ধারায় মার্চ মাসের দিকে ভাষা কমিটিকে পুনরায় আওয়াজ দেই। কিন্তু মে মাস নাগাদ, পাতাগুলোর বিষয়বস্তু কম বলে ভাষা কমিটি অনুমোদন দিতে আগ্রহী হয়নি।

অবশেষে দীর্ঘ বছরখানেক সময় ধরে কয়েকজন ব্যবহারকারীর ধারাবাহিক পরিশ্রমের পর প্রকল্পটি মূল হিসেবে স্বীকৃতি পায় ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরের ১০ তারিখ – এই দিনটি তাই বাংলা উইকিউক্তির জন্মদিন। আমরাও সচেষ্ট হই বিষয়টিকে গুছিয়ে নেয়ার কাজে। কিন্তু গত একটি বছর চলে গেলেও প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য উৎকর্ষ হয়নি। এর পিছনে অনেকগুলো কারণ দেখাতে পারি, কিন্তু একটা ছোট প্রকল্পের ব্যাপারে কারণ দেখিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে কাজ করার পিছনে সময় ব্যয় করাটা আমার কাছে বুদ্ধিমানের কাজ মনে হচ্ছে। সেজন্য উইকিউক্তিতে কীভাবে কাজ করা হয়, সেটা নিয়ে সামান্য লিখছি।

উইকি প্রকল্পগুলোর মধ্যে কাজ করা সবচেয়ে সহজ হচ্ছে উইকিউক্তিতে। মৌলিক কাজ দুটো: উক্তি যোগ করা এবং সঠিক উদ্ধৃতি যোগ করা। ভালো কথা, উইকিপিডিয়ায় যেটাকে রেফারেন্স বা তথ্যসূত্র বলা হয়- বাংলা উইকিউক্তিতে সেটাকে আমরা উদ্ধৃতি বলি। উইকিপিডিয়ার বিপরীতে উইকিউক্তির কঠিন দিক হল- উইকিপিডিয়ায় তথ্য মৌলিক না হলেও ভাষা মৌলিক থাকে। তাই উইকিপিডিয়ায় লেখালেখি অনেকটা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু উইকিউক্তিতে প্রতিটি উক্তির জন্য উপযুক্ত তথ্যসূত্র লাগে। আবার খেয়াল রাখতে হয় যে, লেখাটা কপিরাইট ভঙ্গ করছে কিনা।

তবে উক্তিগুলো খুঁজে পাওয়া খুব একটা কঠিন ব্যাপারও নয়। এছাড়া পাশে আছে ইংরেজি ও আরবির মত বড় বড় উইকিউক্তির ভাণ্ডার আর গুগল অনুবাদক। তাই অনুবাদ করা খুব একটা কঠিন বিষয় নয়। যদিও আমার বিশ্বাস, বিষয়বস্তু অনুবাদ এক্সটেনশনটা সক্রিয় থাকলে আরও অধিক কাজ করা যেত।

একটি পাতা তৈরিতে আমরা একদম সহজ একটি বিন্যাস (ফরম্যাট) ব্যবহার করি। পাতার শুরুতে বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটি বিবরণ যোগ করা হয়, যেটাকে আপনি ভূমিকা বলতে পারেন। ভূমিকাংশ আপনি উইকিপিডিয়ার উৎসনির্দেশ করে সেখান থেকেই কপি করে পেস্ট করতে পারেন। উইকিপিডিয়ার বিষয়বস্তুও উইকিউক্তির মতো ক্রিয়েটিভ কমন্সের অ্যাট্রিবিউশন লাইসেন্সের অধীনে উন্মুক্ত। এটার জন্য সম্পাদনা সারাংশ গ্যাজেটে ভূমিকাংশ নামে একটি বোতামও যুক্ত করা হয়েছে। আরও ভাল হয় যদি উইকিপিডিয়ার পৃষ্ঠাটির সংস্করণ ইউআরএল যোগ করা যায়। এজন্য [[:w:Special:diff/123]] (123-এর জায়গায় কাঙ্ক্ষিত সংস্করণ নম্বর) যোগ করা যথেষ্ঠ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি সাধারণত “উক্তি” শিরোনামে যুক্ত করা হয়। এতে মানুষ ব্যতীত অন্যকিছু হলে তার ব্যাপারে অন্যদের বক্তব্য এবং মানুষ হলে তার নিজের বক্তব্য যোগ করা হয়। মানুষ হলে তৃতীয় আরেকটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয় “তার সম্পর্কে উক্তি” শিরোনামে। এরপর সম্পর্কিত নিবন্ধগুলোর একটি ছোট তালিকা যোগ করা যেতে পারে “আরও দেখুন” অনুচ্ছেদে। আর সবশেষে “বহিঃসংযোগ” শিরোনামে বহিরাগত কোনো সংযোগ প্রয়োজনীয় থেকে থাকলে যোগ করা যেতে পারে, সেটি উইকিপিডিয়ার নিবন্ধও হতে পারে।

উইকিউক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কপিরাইট। কারণ, এটি যেহেতু উন্মুক্ত উৎসের উক্তি সংকলন; তাই কপিরাইটকৃত বিষয় না যোগ করা যাবে আর না কৃতিত্ব দিয়ে এখান থেকে উক্তি অন্যত্র যোগ করা যাবে। এই বিষয়টা খুব একটা কঠিন নয়, তবে কঠিন মনে হলে উপেক্ষা করতে পারেন। কপিরাইট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বৈশ্বিক ও স্থানীয় একটি দল সর্বদাই কাজ করে থাকে। সুতরাং এবিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা সবসময়ই পাওয়া যাবে।

আর হ্যাঁ! আপনি হয়ত ভুল করে ফেলতে পারেন কাজ করতে গিয়ে। নিশ্চিন্ত থাকুন, উইকিপিডিয়ার মত উইকিউক্তিতেও সাহসী লোকের দরকার। যারা বিরতিহীন কাজ করবেন আর কাজে হওয়া ভুলগুলোর জন্য ভীত হবেন না। 

এ তো গেল অবদান রাখা নিয়ে টুকিটাকি কথা। ভবিষ্যতে কোনোদিন উইকিউক্তি নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত লিখব। ততদিনে আশা করি উইকিউক্তি আরেকটু এগিয়ে যাবে। 

উইকিবার্তা
Translate »
Share This