উইকিপিডিয়ার থ্রিডি পাজল গ্লোব লোগো। ছবি: দেনিজ/সিসি-বাই-এসএ ৩.০

এটা দারুণ খুশির খবর যে, ১ লাখ নিবন্ধের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলা উইকিপিডিয়া। এ সম্প্রদায়ের একজন ক্ষুদ্র অবদানকারী হিসেবে এটি আমার জন্যে অবশ্যই আনন্দের। স্বেচ্ছাসেবীদের নিরলস শ্রমে গড়ে উঠা বাংলা উইকিতে এপর্যন্ত যাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মেধা শ্রম ও মননের শৈল্পিক ব্যবহার হয়েছে তাদের প্রতি আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা। এ সম্প্রদায়ে আসা আমার খুব বেশিদিন আগের না হলেও কর্মজীবনের পাশাপাশি প্রায়ই এতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সময় দেয়া হয়।

জ্ঞান আহরণের স্থান হিসেবে উইকিপিডিয়া থেকে প্রতিনিয়ত শিখছি আর নিজেকে সমৃদ্ধ করছি। এর মাঝেই বাংলা উইকির কয়েকজন পুরোনো অবদানকারীর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় শখ জাগে ১০০ উইকি চ্যালেঞ্জ জয় করার। এ প্রতিযোগিতায় অবদানকারী নিজেই একজন প্রতিযোগী আবার নিজেই নিজের কাজের বিচারক। এ পদ্ধতিতে টানা ১০০দিন নিরবিচ্ছিন্নভাবে দৈনিক কমপক্ষে ১টি করে নিবন্ধ তৈরি করতে হয়।

‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ এ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে লেগে পড়লাম। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জুন এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে টানা ১০০ দিন নিবন্ধ লিখে যখন শেষ করলাম এতে সাহস আর মনোবল বেড়ে গেল। সিদ্ধান্ত নিলাম নিবন্ধ লিখায় আর বিরতি দিবো না। বিরতিহীন আবার শুরু করে ৩৬৫ উইকি চ্যালেঞ্জ জয় করলাম। বিরতি না দিয়ে আবার লক্ষ্য নির্ধারণ করলাম ১০০০ উইকি দিবসের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ৪১০তম দিনে এসে বাস্তবতার কাছে হেরে যাই।  তখন দেশের করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের মতো আমিও কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি।

এরইমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন কিছুটা শিথিল হলে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ আগস্ট নতুন একটি জবের ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে রাজধানীতে আসা হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে ল্যাপটপ আর মোবাইল দুটোরই চার্জ শেষ প্রতিদিনের উইকি সম্পাদনায় বিরতি পড়ে যায় আর  আমিও ১০০০ উইকি দিবসের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ি। বেশ কিছুদিন হেরে যাওয়ার যন্ত্রণা মনে চেপে বসে। আর এদিকে নতুন জবে কিছুটা ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। এর মাঝেও আবেগ আর প্রবল নেশায় প্রতি সপ্তাহে কয়েকবার নিবন্ধ তৈরির চেষ্টায় কাজ করি। তবে এখনো এ শখটি রয়ে গেছে। আশা করি কখনো আবার সুযোগ হবে আর ১০০০ উইকি দিবসের চ্যালেঞ্জ জয় করবো।

বাংলা উইকির অন্য অবদানকারীরা দ্বিমত পোষণ না করলে সম্ভবত আমি এ সম্প্রদায়ে প্রথম ৩৬৫ উইকি দিবস চ্যালেঞ্জ বিজয়ী। আমার নিবন্ধের বেশিরভাগ ইংরেজি থেকে অনুবাদ, কিছু আবার বাংলাদেশ সম্পর্কিত নতুন কিছু বিষয় নিয়ে। এরই মধ্যে কয়েকটি এডিটাথনে অংশ নিয়েছি। তবে এ চ্যালেঞ্জ জয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়তে হয়েছে আমাকে। তখনি মনে হয়েছে আসলেই বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৯-এর শেষের দিকে ঝড়ের কবলে আমার গ্রামের বাড়িতে বৈদ্যুতিক গোলযোগ দেখা দেয়। ওইসময় প্রায় সপ্তাহব্যাপী বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে প্রায় পুরো উপজেলা। বাধ্য হয়ে জেলাশহরে আসতে হয়, সেখানে আবার বিদ্যুৎ থাকলেও ঝড়ের কবলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ। নিভু নিভু মোবাইল ডাটা আর ল্যাপটপে সে ডাটার সংযোগই তখন ছিলো ভরসা। যা দিয়ে প্রতিদিনের নিবন্ধ লেখা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হই।

এরমধ্যে একটি মজার অভিজ্ঞতা রয়েছে যা মনে পড়লে আমার এখনো মনে মনে হাসি পায়। কোনো  একদিন নিবন্ধ না লিখে রাত ১১টার দিকে ঘুমিয়ে যাই। ঠিক রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে আবার সেদিনের নিবন্ধ লিখা শেষ করি। বাংলাদেশের গ্রীনিচ মান সময়নুসারে জিএমটি+৬ অঞ্চল হিসেবে সাধারণত ভোর ৬টার দিকে উইকির তারিখ পরিবর্তন হয়। এতে করে রাত ১২টার পরেও নিবন্ধ লিখলে আগের দিনের তারিখেই সেটি সংরক্ষিত হতো। এরকম ঘটনা কয়েক দিন হয়েছে।  তবে আমি সাধারণত নিবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে কয়েকটি নিবন্ধ একদিন বসে প্রস্তুত করে রেখে দিতাম। আর যেদিন কর্মস্থলে ব্যস্ততা বেশি থাকতো সেদিন আগের করা কাজগুলো খুবই সহায়ক হতো।

এছাড়া প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি করে নিবন্ধ তৈরি করতাম যাতে উল্লেখযোগ্যতার মাপকাঠি কিংবা অন্য যেকোনো কারণে একটি নিবন্ধ অপসারণ হয়ে গেলেও অন্যটি টিকে যায়, আর  চ্যালেঞ্জ জয়ে ভাটা না পড়ে।

Translate »
Share This