‘আজাকি’ – শুনলেই আমার মাথায় আসে ‘অ্যাজাক্স’।

অ্যাজাক্স – কম্পিউটার প্রকৌশলীরা যাকে জাভাস্ক্রিপ্টের খেল দেখানোর মন্তর হিসেবে জানেন, সেই অ্যাজাক্স নয়, গ্রিক যোদ্ধা অ্যাজাক্স  দা গ্রেটের কথা বলছি। আমি যখন প্রথম ‘আজাকি’ শব্দটা শুনেছিলাম, তখন আমার মাথায় এই বীর যোদ্ধা অ্যাজাক্সের কথা ঘুরছিল। বিখ্যাত যোদ্ধা আকিলিস-এর পরই স্থান এই বীর যোদ্ধা অ্যাজাক্স-এর। বিখ্যাত ট্রয়ের যুদ্ধে বীরত্ব দেখিয়ে লড়েছিলেন তিনি।

কিন্তু ‘আজাকি’ মানে কী?

আজাকি - বাংলা উইকিপিডিয়া

আজাকি – বাংলা উইকিপিডিয়া

বাংলা উইকিপিডিয়ায়, ‘আজাকি’ নামে একটা নিয়মিত বিভাগ আছে, এর মানে হচ্ছে: “আপনি জানেন কি?” এই বিভাগে, প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে বিশেষ বিশেষ তথ্যগুলো সন্নিবিষ্ট করে উপস্থাপন করা হয়, যাতে অল্প কথায় মগজে স্থান করে নেয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেমন:

আপনি জানেন কি, শূণ্য একটি জোড় সংখ্যা?

উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতার উপরের দিকে, ডানে এই বিভাগটি দেখতে পাওয়া যাবে।

ঠিক যখন এই জ্ঞান বিতরণের চেষ্টা করছি, তখন পৃথিবীজুড়ে মহামারি বিস্তার করেছে SARS-CoV-2, যা নোভেল করোনাভাইরাস-২০১৯ নামে শুরুতে পরিচিত হয়েছিল। যখন সব দেশ কাকের মতো চোখ বুজে ভাবছিলো, আমায় কেউ দেখছে না, আমার দেশে এই ভাইরাস আসবে না, তখনই ধ্রুব সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে এই সূক্ষ্ম, অতি সামান্য, অতি নগন্য ভাইরাস – অতি দ্রুততার সাথে, একে একে মহামারি থেকে বিশ্বমড়ক লাগিয়ে দিয়েছে। …প্রাচীন গ্রিসে আরেকজন অ্যাজাক্স ছিলেন, অলিয়াসের পুত্র – অ্যাজাক্স দা লেসার। এই করোনাভাইরাসের সাথে তার মিলও ছিলো; তিনিও, ছোটখাটো বলেই হয়তো, খুব দ্রুতগতিসম্পন্ন যোদ্ধা ছিলেন। ছিলেন, গ্রিক বীর।

যখন কেউ যুদ্ধ করতে আসে, তখন যুদ্ধের দামামা বাজে, ‘চল এবার বেরিয়ে যুদ্ধের ময়দানে চল…’। কিন্তু এই সংক্রামক বীর শত্রুর থেকে বাঁচতে একমাত্র যুদ্ধাস্ত্র হচ্ছে: ‘ঘরের ভিতর থাকো, নিরাপদে থাকো’। উইকিপিডিয়ানরা তাই সেই কাজটা যত্নের সাথেই করছেন। তাঁরা শুধু ঘরেই থাকছেন না, তাঁরা তাঁদের মতো আরেক যুদ্ধে রত আছেন: তথ্যযুদ্ধে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস যখন বিস্তৃত হচ্ছে, তখন একই সাথে ভুল তথ্যে সয়লাব হয়ে উঠছে চারিদিক, মানুষ হচ্ছে বিভ্রান্ত। সেই দুর্দশা যাতে ঘটতে না পারে, তাই উইকিমিডিয়ানরা রয়েছেন সক্রীয়। তাঁরা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো ভুল তথ্য অপসারণে রয়েছেন সক্রীয়

কিন্তু এই যুদ্ধ তো আর একা একাই মিলিয়ে যাবে না, যারা যুদ্ধাহত, তাদেরকে সারিয়ে তুলতে হবে। সেই সম্মুখ-সমরে শামিল রয়েছেন, ডাক্তার, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পুলিশ, সশস্ত্রবাহিনীসহ বিশ্বব্যাপী প্রচুর প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা। তাঁরাই আমাদের এযুগের বীর – আমাদের অ্যাজাক্স দা গ্রেট।

ঈশ্বরের অশেষ কৃপায়, এই বীর যোদ্ধাদের আত্মত্যাগে, করোনাভাইরাস নামক এই শত্রুকে আমরা অবশ্যই পরাজিত করবো। অ্যাজাক্স দা গ্রেট-কে নিয়ে পরাজিত করবো অ্যাজাক্স দা লেসার-কে – এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আজাকি – আপনি জানেন কি, করোনাভাইরাসকে শূণ্যের মতো জোড় সংখ্যায় নিয়ে আসতে আমাদের কী করতে হবে?

ঘরে থাকতে হবে।

শুভ নববর্ষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ!

– মঈনুল ইসলাম
১৪ এপ্রিল ২০২০

Translate »
Share This