উইকিপিডিয়ায় জুয়া খেলা… সত্যি বলছি, উইকিপিডিয়ায় এক প্রকার জুয়া খেলা যায়, মানে চাকা ঘুরানো যায় আরকি। 😀 আনাড়ি হাতে চাকাটা ঘুরিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ আর কত করবেন? এবার চলেন লাভজনক একটা জুয়া খেলি…

উইকিপিডিয়ায় একটা মজার খেলার নাম “অজানা যেকোনো পাতা”। আমার যখন কাজকম্ম কিছুই থাকে না (থাকে না নাকি?) তখন আমি বাংলা উইকিপিডিয়াতে গিয়ে বাম পাশের “অজানা যেকোনো পাতা” লিংকটাতে ক্লিক করতে থাকি। তাতে কী হয়? তাতে যেটা হয়, সেটা এক কথায় অসাধারণ, কিন্তু একজন প্রোগ্রামারের জন্য, মানে মিডিয়াউইকির আঙ্গিকে সেটা একটা পানিভাত। এই লিংকটা করে কি, বাংলা উইকিপিডিয়া থেকে দৈবচয়নে (randomly) যেকোনো একটা নিবন্ধ আপনার সামনে উপস্থাপন করে বসে। …তাতেইবা কী?

মজাটা সেখানেই। আপনি জীবনেও খুঁজবেন না, জীবনেও চিনবেন না, কিংবা চিনতে চাইবেন না, এমন সব আজগুবি, কিংবা বিদঘুটে, কিংবা অদ্ভূতুড়ে, কিংবা বিচিত্র নিবন্ধ, নাম, বিষয়-আশয় আপনার নজরে পড়বে, এবং মোদ্দাকথা আপনি অদেখা এক জগতে হাজির হয়ে যাবেন।

যেমন: আমি কয়েকবার ক্লিক করার পর হাজির হলাম যে নিবন্ধে তার নাম: “ট্রডল ইয়ুঙ্গে” – আমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কিংবা হিটলার নিয়ে খুব একটা ফ্যানাটিক না, তাই এই নামও জানতাম না। ইনি হলেন ‘গেরট্রড “ট্রডল” ইয়ুঙ্গে’, হিটলারের সর্বশেষ ব্যক্তিগত সচিব। “প্যালিওজোয়িক” নামে এতো সুন্দর একটা নিবন্ধ যে বাংলা উইকিপিডিয়াতে আছে, তা জানাই ছিল না। ইফফাত জাহান তামান্না নিবেদিত হয়ে বেশ গুছিয়েছেন নিবন্ধটাকে। এবারে হাজির হলাম “চিবচ্যান দেশসমূহে স্পেনীয় অভিযান” – অদ্ভুত নিবন্ধ। “চিবচা” নামে যে এই পৃথিবীতে একটা ভাষা আছে, সেটাই জানতাম না এই নিবন্ধ না দেখলে। 😯

না দেখলে বিশ্বাসই করবেন না, ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথ জলদস্যু পালতেন! 🙄 সেনাবাহিনী না, নৌবাহিনী না, রীতিমতো “জলদস্যু”? হাজির হয়েছি “সী ডগস” নিবন্ধে। কী যে অদ্ভুত দুনিয়া, রাণী আবার তাদেরকে লেটার অব মার্কি নামে একটা অনুমতিপত্রও দিয়ে দিয়েছিলেন।

রাজনীতি আসলেই মারাত্মক! আমাদের সুপরিচিত বঙ্কিম বাবু, মানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “অনুশীলন তত্ত্ব”-এর আদর্শে দিক্ষীত হয়ে সশস্ত্র ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়েছিল অনেক “অনুশীলন সমিতি” – সত্যি বলছি, জীবনে এই প্রথমবার এই নাম শুনেছি। মূলত কলকাতা আর ঢাকায় ছিল এই অনুশীলন সমিতি, তার মধ্যে দুর্ধর্ষ ছিল “ঢাকা অনুশীলন সমিতি”; ডি. সি. অ্যালানের হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক হত্যাকান্ডের পিছনে ছিল এই অনুশীলন সমিতি। বাপরে বাপ!

আমার অঞ্চল সিলেটের নামে যে একটা কচ্ছপের নাম আছে, জিন্দেগিতেও জানা হতো না, যদি না জুয়ার হুইলটা ঘোরাতাম: “সিলেটি কড়ি কাইট্টা” – এরা আবার সংরক্ষিত প্রজাতি। 🐢 “ভেরসা” নামে যে বাংলাদেশের উত্তরে একটা নদী আছে, আজকের আগে আমি অন্তত জানতাম না, অথচ সেই পঞ্চগড়ও ঘুরে এসেছি আমি।

ভ্রমণপিয়াসী মানুষ আমি। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে দৈবচয়নেই আবার কিভাবে যেন ফিরে এলাম “সী ডগস”-এ। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, এক মহা অভিযাত্রীকে মিস করে গেছিলাম। স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক, গুন্ডা (মানে জলদস্যু) আবার “স্যার” — অদ্ভুত মিশেল, ছিলেন এই সী ডগ্‌স-এরই একজন, যিনি সমুদ্রপথে পৃথিবী ভ্রমণকারী দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন।

আমার ভ্রমণ আজকের মতো এখানেই শেষ। কী মনে হয় আপনাদের? যাবেন নাকি আমার মতোই আরেকটা অভিযানে? সব জুয়া কিন্তু মন্দও না, তাই না?

– মঈনুল ইসলাম মঈন
২৭ অক্টোবর ২০১৯

Translate »
Share This