সম্প্রতি শেষ হয়েছে ঐতিহ্য ও স্থাপনা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছবি প্রতিযোগিতা উইকি লাভস মনুমেন্টস ২০১৮। সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী চলা আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৫৬টি দেশের সাথে বাংলাদেশ এবং ভারতও অংশগ্রহণ করে। ছবি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ থেকে মোট ১৩,৮৭৮ জন অংশগ্রহণকারী মিলে  ২,৬৫,৩৯৫টি ছবি আপলোড করেছেন। ছবি জমাদানের দিক থেকে রাশিয়া ৩২,৫৯৮টি, ইতালি ২৮,৯৮৭টি এবং জার্মানি ২৫,৮০৯টি ছবি নিয়ে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

৫৬টি দেশের মধ্যে ১৪,৭১০টি ছবি নিয়ে ভারতের অবস্থান পঞ্চম এবং ৪,৭৮৮টি ছবি নিয়ে বাংলাদেশ ১৩তম অবস্থানে আছে। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ৮,০৯৬টি ছবি আপলোড করেছেন জার্মানির টিলম্যান। বাংলাদেশ ও ভারত থকে থেকে সর্বোচ্চ ছবি অাপলোড করেছেন যথাক্রমে আমিনুল জয় (১৫০৮টি) এবং ভেঙ্গুলিস (৭৮২টি)।

বাংলাদেশ, উইকি লাভস মনুমেন্টস প্রতিযোগিতায় এ বছর তৃতীয়বারের মত অংশ নেয়। গত বছর দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণে আজিম খান রনি ও যুবায়ের বিন ইকবালের তোলা বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের দুটি ভিন্ন ছবি আন্তর্জাতিকভাবে তৃতীয় ও সপ্তম স্থান দখল করে। এ বছর প্রতিযোগিতা শেষে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১০টি ছবি পাঠানো হয়। মাসব্যাপী ছবিসমূহ মোট পাঁচটি ধাপে ভিন্ন ভিন্ন দেশের ৩জন অভিজ্ঞ বিচারক পর্যালোচনা করেন। জাতীয়ভাবে বিজয়ীরা হলেন আজিম খান রনি, পল্লব কবির, শাহরিয়ার আমিন ফাহিম, সৈয়দ সাজিদুল ইসলাম, নাজমুল হাসান খান, আব্দুল মুমিন ও এমদাদ হোসেন। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশে এ প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে আসছে ‘উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ’।

এদিকে, এ বছর পঞ্চমবারের মত অংশ নিয়েছে ভারত। প্রতিযোগিতার ভারতীয় অংশটি যৌথভাবে আয়োজন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়’ এবং ‘পাঞ্জাব উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়’। প্রশান্ত সোমনাথের তোলা পুনের একটি মন্দিরে বান্ধারা উৎসবের ছবি গত বছর আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম স্থান দখল করে। এ বছর ভারত থেকেও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১০টি ছবি পাঠানো হয় যেগুলো তুলেছেন গঙ্গাদ্বীপ সিং, প্রাসমো, গনেশ শুভ্র, ভিক, শার্ভা, অমরজিৎ চৌধুরী, অভি, মৌর্য, মিতেশ ও ভূপি।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ থেকে প্রাপ্ত ১০টি করে সেরা ছবি থেকে আন্তর্জাতিক বিজয়ী ঘোষণা করা হবে ডিসেম্বরের শেষ দিকে। বর্তমানে প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পর্যালোচনা চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে বিজয়ী প্রথম দশজনকে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়েও স্বতন্ত্রভাবে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এ বছর প্রতিযোগিতাটি আয়োজনে আয়োজকদের সহযোগিতা করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ‘ইউনেস্কো’, জনপ্রিয় আলোকচিত্র শেয়ারিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লিকার’ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সংস্থা ‘ইউরোপানোস্ট্রা’। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের স্থাপনার ২০ লাখের বেশি ছবি উইকিপিডিয়া তথা উইকিমিডিয়া কমন্সে যুক্ত হয়েছে।

 

Translate »
Share This