উইকিপিডিয়া — এই পৃথিবীর মানুষের মধ্যে মুক্ত জ্ঞানচর্চার বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়া একটি আলাদিনের চেরাগের নাম। ২০০০ সালে যখন বিশ্বের মানুষ Y2k’র জগতে প্রবেশ করলো, তখনই এই বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছিলেন জিমি ওয়েল্‌স এবং ল্যারি স্যাঙ্গার Nupedia চালু করে। সেদিন কি তাঁরা চিন্তা করতে পেরেছিলেন যে, এই সামান্য উদ্যোগ বিশ্বের বিপুল মানুষের এমনই আগ্রহ তৈরি করে ছাড়বে যে, তারা নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে নিজের খেয়ে বোনের মোষ তাড়াতে উঠেপড়ে লাগবে। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জানুয়ারি যখন ন্যুপিডিয়া, উইকিপিডিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো, তখন থেকে আজ ১৭টি বছর পেরিয়ে এই বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের নাওয়া-খাওয়া-ঘুম উবে গেছে শ্রেফ এক অমোঘ নেশায় — উইকিপিডিয়া সম্পাদনায়।

হ্যাঁ, উইকিপিডিয়া এই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিশ্বকোষ, যা এক অপূর্ব ক্রাউড-সোর্সিং পদ্ধতিতে যে-কারো সম্পাদনায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। উইকিপিডিয়া রয়েছে বিশ্বের ২৯৯টি ভাষায়। এমনকি উইকিপিডিয়া রয়েছে বাংলা ভাষায়ও (http://bn.wikipedia.org)। আর এই বাংলা উইকিপিডিয়ায় ১,৭৯,৫০০ জনেরও বেশি উইকিপিডিয়ান আমাদের গর্বের ভাষা বাংলায় অবদান রেখে চলেছেন প্রতিনিয়ত।

তাঁদের এই অবদানকে আরো বেগবান করতে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের অনুমোদিত স্থানীয় চ্যাপ্টার উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কাজ করে আসছে। সম্প্রতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, নবনির্বাচিত সভাপতি এবং বাংলা উইকিপিডিয়ান জনাব শাবাব মুস্তাফা বাংলা ভাষায় এই উইকিপিডিয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু তুলে ধরার জন্য একটি সাময়িকী প্রকাশের প্রস্তাব করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে সম্প্রদায়ের আগ্রহ কুড়িয়ে নেয়। আর তারই ফলশ্রুতিতে এই প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে।

প্রথম সংখ্যা আমরা যদিও পিডিএফ হিসেবে প্রকাশ করছি, তবে ঈশ্বর চাইলে আগামী সংখ্যাগুলোকে আমরা ওয়েবে আলাদা করে হয়তো একটি ঠিকানা দিতে পারবো। ধন্যবাদ জানাচ্ছি সকল উইকিপিডিয়ান এবং উইকিমিডিয়ানকে এবং এই সাময়িকীর সকল প্রদায়ক, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীদের — তাঁদের মূল্যবান সময় ও শ্রম এই প্রকাশনাকে আলোর মুখ দেখিয়েছে।

আজ ১৪ এপ্রিল ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা, এবং স্বাগতম আমাদের প্রথম প্রকাশনায়। ■

– মঈনুল ইসলাম মঈন
১৪ এপ্রিল ২০১৮

Translate »
Share This