বর্ষসেরা উইকিমিডিয়ানের অনারেবল মেনশন পেয়েছেন নাহিদ সুলতান। ছবি: মহীন রীয়াদ/সিসি-বাই-এসএ ৪.০

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ সুলতান ২০১৮ সালের বর্ষসেরা উইকিমিডিয়ান (অনারেবল মেনশান) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। গত ১৮-২২ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে অনুষ্ঠিত উইকিপিডিয়ানদের বার্ষিক মিলনমেলা উইকিম্যানিয়ায় উইকিপিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েল্‌স নাহিদের নাম ঘোষণা করেন। এছাড়াও এবার বর্ষসেরা উইকিমিডিয়ানের মূল সম্মাননা পেয়েছেন রাশিয়ার ফারখাদ ফারকুলিন এবং নাহিদ সুলতানের সাথে আরো অনারেবল মেনশান পেয়েছেন ইংরেজি উইকিপিডিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী ড. জেস ওয়েড।

ঘোষণায় নাহিদের অবদান হিসেবে জিমি ওয়েল্‌স উল্লেখ করেন, “কঠিন নীতিমালার কারণে ফান্ডিং পাওয়া অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ার মত নানাবিধ প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকাসত্ত্বেও অন্যতম সফল চ্যাপ্টার উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি নাহিদ। এছাড়াও তিনি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ে উইকিমিডিয়ার একজন স্টুয়ার্ড (গ্লোবাল এডমিন) এবং ওটিআরএস সদস্য হিসেবে অবদান রেখে চলেছেন। উইকিমিডিয়া আন্দোলনের সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমসমূহ (উদাহরণস্বরূপ উইকিমিডিয়া কমন্সের ফেসবুক পাতা) তিনি সফলতার সাথে পরিচালনা করে যাচ্ছেন। নাহিদ উইকিমিডিয়ার আইডল হয়ে উন্মুক্ত জ্ঞানের প্রসারের মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বের মানুষকে সংযুক্ত করে তাঁদেরকে একে অপরের কাছ থেকে শেখা ও তথ্য বিনিময়ে সহায়তা করতে কাজ করে যাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েল্‌স ২০১১ সালে উইকিপিডিয়া এবং বৈশ্বিক উইকিমিডিয়া মুভমেন্টে অসামান্য অবদানের জন্য এই সম্মাননাটি চালু করেন। তখন থেকে প্রতি বছর উইকিপিডিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে উইকিবার্তার পক্ষ থেকে নাহিদ সুলতানের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। সাক্ষাৎকারটি এখানে উদ্ধৃত হলো:

উইকিবার্তা: প্রথমেই অভিনন্দন জানাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনন্য এই স্বীকৃতি অর্জনের জন্য। যখন আপনার নাম ঘোষণা করা হল, তখনকার অনুভূতিটা কেমন ছিল?

নাহিদ: আপনাকে ধন্যবাদ। আমি উইকিপিডিয়া তথা উন্মুক্ত জ্ঞান নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। স্বভাবতই, আমার ভালোলাগার সেই কাজে স্বীকৃতি পাওয়া অবশ্যই আনন্দের ছিল। সাধারণত, উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের স্টাফগণ বৈশ্বিক উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের এই সম্মাননার জন্য মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্য থেকে জিমি ওয়েল্‌স বর্ষসেরাদের বেছে নেন। আমার নাম মনোনয়নের বিষয়টি আমি একেবারেই অবগত ছিলাম না। সুতরাং যখন নাম ঘোষণা করা হলো তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম। ঘোষণা আর স্ক্রিনে নিজের নাম শুনে, দেখে যতটা না খুশি হয়েছি তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছি ৭০টি দেশের মানুষের সামনে বাংলাদেশ আর বাংলা সম্প্রদায়ের নাম দেখে।

উইকিপিডিয়া কর্মশালায় নাহিদ সুলতান। ছবি: ইব্রাহীম হোসেন মেরাজ/সিসি-বাইএসএ ৪.০

উইকিবার্তা: আপনার উইকিজীবন নিয়ে বলুন। শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?

নাহিদ: খুব সম্ভবত ২০১০-এর শেষদিকে আমার স্কুলের নাম ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রথম ইংরেজি উইকিপিডিয়াতে সম্পাদনা করেছিলাম। এরপর, ২০১২’র মাঝামাঝি পর্যন্ত মাঝে মাঝে সম্পাদনার চেষ্টা করেছি। তবে, ২০১২’র এপ্রিল থেকে নিয়মিতভাবে কাজ করা শুরু করেছি। প্রথমদিকে যখন বাংলা উইকিপিডিয়ায় সম্পাদনা করি তখন বাংলা টাইপ করতে পারতাম না, অভ্রতে মাউস দিয়ে একটি একটি অক্ষর ক্লিক করে কিছুদিন সম্পাদনা করেছি। ব্যাপারটি কষ্টকর ছিল। ২০১৩ সালের দিকে অনলাইনে অবদানের পাশাপাশি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সাথেও যুক্ত হয়ে পড়ি।

উইকিবার্তা: ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক পরিসরে উইকিমিডিয়া আন্দোলন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

নাহিদ: আমরা উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ থেকে মাতৃভাষায় বিশেষ করে বাংলায় উইকিপিডিয়া তথা উইকিমিডিয়ার শিক্ষামূলক কার্যক্রম প্রসারের লক্ষ্যে অনেকদিন যাবতই কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে উইকিপিডিয়া নিয়ে এখনো আশানুরূপ সচেতনতা গড়ে উঠেনি। ভাষাভাষীর সংখ্যার তুলনায় তাই উইকিপিডিয়ায় বাংলাদেশ এবং এ অঞ্চল সম্পর্কিত তথ্য অনেক কম – বিশেষ করে মাতৃভাষায় উন্মুক্ত বিষিয়ভিত্তিক তথ্য নেই বললেই চলে। আমাদের ভাষায় যেহেতু আমাদেরকেই অবদান রাখতে হবে তাই উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ থেকে আমরা উইকিপিডিয়ায় অবদান রাখা এবং এবিষয়ে সচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। একইসাথে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের উইকিপিডিয়ানদের নিয়ে ২০২০ সালে বাংলাদেশে আমরা একটি সম্মেলন অায়োজনের জন্য কাজ করছি। বৈশ্বিক উইকিমিডিয়া আন্দোলনে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ সক্রিয় চ্যাপ্টার হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিকভাবে এই অঞ্চলের গুরুত্ব এবং সমস্যাসমূহ নিয়ে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে কাজ করবো।

উইকিবার্তা: বাংলাদেশের উইকিমিডিয়া আন্দোলন পরিচালনার প্রধান সমস্যা বা প্রতিকূলতা কী বলে আপনি মনে করেন?

নাহিদ: যেমনটি উপরে বলেছি, আমাদের এখানে উইকিপিডিয়ায় অবদান রাখার ব্যাপারে অগ্রহ খুবই কম। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক দিক বিবেচনায় একজন মানুষের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবায় বাড়তি কিছু করার প্রবণতা এখনো গড়ে উঠেনি সেভাবে। আর সেজন্য ইন্টারনেটের এই যুগে বিশ্বের ৫ম ট্রাফিক ওয়েবসাইটে দেশের তথ্য সমৃদ্ধ থাকলে যে, আদতে আমাদেরই লাভ বা আমাদের সংস্কৃতি আর ইতিহাস সম্পর্কে বিশ্বের মানুষ জানতে পারবে সেটি বুঝানোটাও কষ্টসাধ্য। এই সচেতনতা তৈরি হলে আশা করি ভবিষ্যতে উইকিমিডিয়ায় অবদান রাখার প্রতিকূলতা দূর হবে এবং অনেকেই এগিয়ে আসবেন।

উইকিবার্তা: ধন্যবাদ, নাহিদ আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য।

নাহিদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Translate »
Share This